কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লাখ লাখ মানুষের চাকরি কেড়ে নিতে পারে: হিন্টন সতর্ক

গাজীপুর নিউজ ২৪|| প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০২৫  
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লাখ লাখ মানুষের চাকরি কেড়ে নিতে পারে: হিন্টন সতর্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির পথিকৃৎ এবং “এআইয়ের গডফাদার” হিসেবে খ্যাতজিওফ্রি হিন্টনসম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে, এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে লাখ লাখ মানুষের চাকরি হরণ করতে পারে। হিন্টনের মন্তব্যে উঠে এসেছে, কেবল প্রযুক্তির অগ্রগতি নয়, বরং সমাজ ও অর্থনীতির কাঠামোই এমন বিপদ ডেকে আনতে পারে।

এআই কিভাবে কর্মসংস্থান প্রভাবিত করছে

ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিন্টন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন এমন কাজ করতে সক্ষম, যা আগে শুধুমাত্র মানুষের পক্ষেই সম্ভব ছিল।”

·         গ্রাহকসেবা থেকে শুরু করে

·         আইনি গবেষণা

·         সৃজনশীল লেখালেখি পর্যন্ত

এই সব ক্ষেত্রেই এআই মানুষের প্রতিস্থাপন শুরু করেছে। হিন্টন উল্লেখ করেন, যত দ্রুত এআই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়ছে, তত দ্রুত বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

প্রযুক্তি নয়, অর্থনীতি সমস্যা

হিন্টনের মতে, কর্মসংস্থান সংকট কোনো প্রযুক্তিগত অনিবার্যতা নয়।বরং এটি একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফলাফল, যেখানে সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পমেয়াদি মুনাফাকে দীর্ঘমেয়াদি মানবকল্যাণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। তিনি মন্তব্য করেন,

সমস্যা এআই নয়, আমরা সমাজ ও অর্থনীতিকে যেভাবে গড়ে তুলেছি, সেটিই বিপদের মূল কারণ।”

নীতিমালা এবং সামাজিক সুবিচার

হিন্টন এআই প্রযুক্তির অগ্রগতিকে থামাতে চান না। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি কার্যকরনীতিমালাপ্রণয়ন করা না হয়, তবে:

·         স্বয়ংক্রিয়তার সুবিধা কেবলএকটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূতহবে,

·         বিপুলসংখ্যক মানুষবেকার বা আংশিক কাজ করতে বাধ্যহবে,

·         সমাজেঅসাম্য ও বৈষম্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

হিন্টনের মতে, সরকার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব হলো, এআই প্রযুক্তির সুফল সমাজে সবার মধ্যে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া।

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামো সমালোচনা করে হিন্টন বলেন,

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত মুনাফা বাড়াতে মনোযোগী, যেখানে শ্রমিকদের কল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। যদি আমরা এআইকে কেবল মুনাফা বৃদ্ধির অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করি, তবে সমাজ ভয়াবহ অবস্থার মুখে পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, এআই কেবল একটি প্রযুক্তি; সমস্যা হলো সেটিকে সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা না হওয়া।

উপসংহার

হিন্টনের সতর্কবার্তা স্পষ্ট: এআই প্রযুক্তি দ্রুত মানুষের কাজের ধরন পরিবর্তন করছে, কিন্তু যদিসঠিক নীতি, নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক সমতার জন্য পদক্ষেপনেওয়া না হয়, তবে এটি লাখ লাখ মানুষের জীবন ও কর্মসংস্থানকে বিপর্যয়ে ফেলতে পারে। তাই শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, সামাজিক নীতি এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর পুনর্গঠনও সমানভাবে জরুরি।

সূত্র:টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়