এনসিপি থেকে তাসনিম জারার পদত্যাগ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ খবর জানা গেছে। পদত্যাগ করে তাসনিম জারা এনসিপির দলীয় গ্রুপে লিখেছেন, প্রিয় সহযোদ্ধাগণ, আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি। গত দেড় বছরে আপনাদের থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সেজন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো।
ফেসবুকে পোস্টে তিনি লেখেন, প্রিয় খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবাসী, আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খিলগাঁওয়েই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আমার স্বপ্ন ছিল একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে আমার এলাকার মানুষের ও দেশের সেবা করা। তবে বাস্তবিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি আপনাদের এবং দেশের মানুষকে ওয়াদা করেছিলাম যে আপনাদের জন্য ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার জন্য আমি লড়বো। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি আমার সেই ওয়াদা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ থেকে অংশগ্রহণ করবো। একটা দলের প্রার্থী হলে সেই দলের স্থানীয় অফিস থাকে, সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী থাকে। সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে নিরাপত্তা বা অন্যান্য বিষয়ে আপত্তি ও শঙ্কা নিয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে। তবে আমি যেহেতু কোনো দলের সঙ্গে থাকছি না, তাই আমার সেসব কিছুই থাকবে না। আমার একমাত্র ভরসা আপনারা।
আপনাদের মেয়ে হিসেবে আমার সততা, নিষ্ঠা এবং নতুন রাজনীতি করার অদম্য ইচ্ছাশক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আপনারা যদি স্নেহ ও সমর্থন দেন, তবেই আমি আপনাদের সেবা করার সুযোগ পাবো। ডা. তাসনিম জারা একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর।
১৯৯৫ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা ডা. জারা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসটিঙ্কশনসহ (সর্বোচ্চ ফলাফল) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ অব অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্টস থেকে DRCOG ডিগ্রি অর্জন করেছেন, যা নারী স্বাস্থ্য বিষয়ে তার গভীর দক্ষতার পরিচয় বহন করে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজে একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত এবং স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘সহায় হেলথ’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সহজ বাংলায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সঠিক স্বাস্থ্য তথ্য প্রচারের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে বিবিসি’র ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় তিনি স্থান পান। ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তিনি দেশের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটেও ভূমিকা রাখছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে তার নাম বিশেষভাবে আলোচিত হয়।



















