তারেক রহমান ও জাইমার ভোটার তালিকাভুক্তি নিয়ে রবিবার সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তাঁর কন্যা জাইমা রহমানের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসছে রবিবার। এ বিষয়ে আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসি সচিব জানান, তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ইতোমধ্যে ভোটার নিবন্ধনের সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এখন কমিশনের অনুমোদন পেলেই তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, “আগামীকাল রবিবার কমিশনের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।”
ইসি সচিব জানান, শনিবার তারা উভয়ে ভোটার নিবন্ধন ফর্ম জমা দিয়েছেন এবং ‘ফর্ম–২’ পূরণের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করেছেন। নিবন্ধনের সময় তারা ছবি তোলেন, বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করেন এবং আঙুলের ছাপ, স্বাক্ষর, মুখমণ্ডলের তথ্য ও আইরিশ স্ক্যান জমা দেন।
তিনি আরও জানান, তারেক রহমান ও জাইমা রহমান ঢাকা–১৭ আসনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন।
তারেক রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, নিবন্ধন সম্পন্ন হলেও সব তথ্য সার্ভারে আপলোড করে যাচাই-বাছাইয়ের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। তিনি বলেন, “ফিঙ্গারপ্রিন্ট, সিগনেচার, ফেস ও আইরিশ তথ্য মিলিয়ে যাচাই করতে কিছুটা সময় লাগে। যাচাই সম্পন্ন হলে তাদের এনআইডি নম্বর দেওয়া হবে। আশা করছি, আজকের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া শেষ হবে।”
ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত কবে চূড়ান্ত হবে—এ প্রশ্নের উত্তরে ইসি সচিব বলেন, ভোটার নিবন্ধন একটি চলমান প্রক্রিয়া হলেও বিষয়টি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। সে কারণেই কমিশনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এ কারণে বিষয়টি দ্রুত কমিশনের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”
আখতার আহমেদ আরও জানান, ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার রয়েছে যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার। কমিশন এই ক্ষমতার আওতায়ই বিষয়টি বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত দুটি উপায়ে নেওয়া হতে পারে—একটি আনুষ্ঠানিক সভার মাধ্যমে অথবা নথির মাধ্যমে। কমিশন চাইলে সভা ডেকে বা নথিপত্র পর্যালোচনা করেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি পুরোপুরি কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান ও জাইমা রহমানের ভোটার তালিকাভুক্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



















