পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, অধ্যাদেশ জারি

গাজীপুর নিউজ ২৪|| প্রকাশিত: ০৩:০৫ পিএম, ০১ জানুয়ারী ২০২৬  
পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, অধ্যাদেশ জারি

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইন আরো কঠোর করতে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে।

বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এটি কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে ২০০৫ সালের প্রচলিত আইনকে আরো শক্তিশালী করা হলো। প্রধান উপদেষ্টার দফতর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত পৃথক আইন বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকপণ্য সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘তামাকজাত দ্রব্য’-এর সংজ্ঞা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি), নিকোটিন পাউচসহ সব নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘নিকোটিন’ ও ‘নিকোটিন দ্রব্য’-এর আলাদা সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। সরকার প্রয়োজনে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন কোনো পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। একই সঙ্গে ‘পাবলিক প্লেস’-এর সংজ্ঞাও আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে। নতুন আইনে সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ বিধান অমান্য করলে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা করা হয়েছে। তামাকজাত দ্রব্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা এখন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তামাকের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি দোকানে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন, তামাক কোম্পানির নামে বা লোগো ব্যবহার করে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রম পরিচালনা এবং কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির আর্থিক সহায়তা প্রদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে না। ই-সিগারেট ও অন্যান্য উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রফতানি, সংরক্ষণ, বিক্রি ও ব্যবহারকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার তৈরি বিড়ির উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে থাকা পৃথক ‘বিডি ম্যানুফ্যাকচার (প্রোহিবিশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৫’ বাতিল করা হয়েছে।

তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের সঙ্গে কোনো ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ জায়গাজুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো তামাকজাত দ্রব্য বাজারজাত করা যাবে না। আইন বাস্তবায়ন জোরদার করতে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল, মালামাল জব্দ এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলা পরিচালনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়