বিএনপির গণসংযোগে গুলিবিনিময়ে সরোয়ার নামের এক ব্যক্তি নিহত

গাজীপুর নিউজ ২৪|| প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০২৫  
বিএনপির গণসংযোগে গুলিবিনিময়ে সরোয়ার নামের এক ব্যক্তি নিহত

প্রচারণার সময় সহিংসতার মুখে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধচট্টগ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়া সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা (৪৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ বলছে, নিহত সরোয়ার একজন ‘সন্ত্রাসী’। তবে বিএনপির দাবি, সরোয়ার তাঁদের দলের কেউ নন। বিএনপি নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গণসংযোগে শত শত মানুষ অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে সরোয়ারও উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ সরোয়ারকে গুলি করা হয়।

এর আগে বিকেলে চট্টগ্রাম–৮ (বাকলিয়া–বোয়ালখালী) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগ চলাকালে চালিতাতলী এলাকায় গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে এরশাদ উল্লাহ, সরোয়ার এবং শান্ত নামের আরও একজন গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে সরোয়ার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, গুলিতে আহত সরোয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ প্রায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

আরো পড়ুন:

প্রচারণার সময় সহিংসতার মুখে বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধ

এর আগে গত ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া এলাকায় সরোয়ারের ওপর গুলি চালানো হয়। সে ঘটনায় প্রাইভেট কারে থাকা দুজন নিহত হলেও সরোয়ার প্রাণে বেঁচে যান। তদন্তে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছোট সাজ্জাদ নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে ওই হামলা চালানো হয়।

ছোট সাজ্জাদ বিদেশে অবস্থানরত শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। বড় সাজ্জাদ ২০০০ সালের বহদ্দারহাটে আটজন হত্যার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত হলেও পরে উচ্চ আদালত থেকে খালাস পান। বর্তমানে তিনি বিদেশে থেকে তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারী এলাকায় অপরাধচক্র পরিচালনা করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

একসময় সরোয়ারও বড় সাজ্জাদ–ছোট সাজ্জাদের অনুসারী ছিলেন, তবে ২০১৫ সালের পর তিনি তাঁদের থেকে আলাদা হয়ে যান।

নিহত সরোয়ার এক মাস আগে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে সরোয়ারকে বিএনপির বিভিন্ন সমাবেশে দেখা গেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রার্থীর গণসংযোগে শত শত মানুষ ছিলেন। সরোয়ার সেখানে উপস্থিত ছিলেন বটে, তবে তাঁর ওপর গুলি চালানো হয় পুরোনো বিরোধের জেরে।”

বর্তমানে আহত এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ জানিয়েছেন, এরশাদ উল্লাহর পেটে ছররা গুলি লেগেছে, তবে তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়