Breaking News
Home / কাপাসিয়া / কাপাসিয়ার নাশেরা সুপার মার্কেটে কৃষক এরশাদ সরকারের কচু নিয়ে কাড়াকাড়ি

কাপাসিয়ার নাশেরা সুপার মার্কেটে কৃষক এরশাদ সরকারের কচু নিয়ে কাড়াকাড়ি

কাপাসিয়া গাজীপুর থেকে শামসুল হুদা লিটনঃ এরশাদ সরকার। কাপাসিয়া উপজেলার নাশেরা গ্রামের একজন প্রান্তিক চাষী। একজন আদর্শ কৃষক। কিছু নিজের জমি থাকলেও বেশির ভাগই অন্যের জমি বর্গা ও ডগি হিসেবে লিজ নিয়ে নানাধরণের শাকসবজি চাষাবাদ করে থাকেন। শাকসবজি চাষাবাদ করা এরশাদ সরকারের নেশা। শাকসবজি উৎপাদনে তিনি কখনো কোন প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেননা। নিজের গোয়ালের গরু – ছাগলের গোবর- লেদা দিয়েই ফসল ফলান। এ কারনেই এলাকায় কৃষক এরশাদ সরকারের উৎপাদিত শাকসবজির চাহিদা খুবই বেশি।

তিনি এ বছর বাড়ির পাশে অন্যের জমি ডগি লীজ নিয়ে প্রায় এক বিঘা জমিতে কচু চাষা করেছেন। তাঁর ক্ষেতের কচু, কচুর লতি ও শাকের স্বাদে ভিন্নতা থাকায় চাহিদা ও প্রচুর। সে কারণে তাঁর কচু বড় কোন বাজারে নিয়ে বিক্রি করার প্রয়োজন পড়েনা। এলাকার মানুষ তাঁর বাড়ি কিংবা বাড়ির পাশের নাশেরা সুপার মার্কেট থেকেই কচু কিনে নিয়ে যান। নাশেরা সুপার মার্কেটে এরশাদ সরকারের কচুর জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তাই এরশাদ সরকারের স্বাদের কচু স্থানীয় নাশেরা সুপার মার্কেটে তুললেই এলাকার জানাশোনা ক্রেতাদের মধ্যে শুরু হয় কচু নিয়ে কাড়াকাড়ি। এরশাদ সরকার জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার টাকার মতো কচুর লতি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে কচুর মূল, কান্ড বিক্রি হচ্ছে । কচুর সাইজ অনুযায়ী প্রতিটি কচু ৩০ থেকে ৪০ টাকা কখনো কখনো ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এ বছর তিনি কচু চাষে লাভের মুখ দেখবেন বলে তিনি জানান।
এরশাদ সরকারের কচু নিয়ে লিখার পাশাপাশি কচুর নানা দিক ও উপকারিতা নিয়ে কিছু লেখা প্রয়োজন বলে মনে করছি। কচুর রয়েছে হরেকরকমের গুণাগুণ ও উপকারিতা। নীচে কচুর নানা দিক নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

১.কচু একটি জনপ্রিয় শাকঃ
কচু শাক বাংলাদেশের শহর ও গ্রামের ঘরে ঘরে অতি পরিচিত একটি শাক। এই শাক বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়। তবে, কচু পাতা ভর্তা ও তরকারি বেশি জনপ্রিয়। ইলিশ, চিংড়ি, ছোট মাছ বা শুটকি মাছ দিয়ে এ শাকের তরকারি খুবই জনপ্রিয়।
প্রজাতিভেদে কচুর মূল তরকারি, কাণ্ড সবজি এবং পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়।

২.কচুর মূল,কাণ্ড ও পাতায় রয়েছে পুষ্টিঃ
কচুর মূল কান্ড ও পাতায় প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি রয়েছে। কচু শাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ডিটারেরী ফাইবার, শর্করা, বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে।
দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার অনেকখানি পূরণ করতে পারে কচু।
৩. কচু শাকেরনানা উপকারিতাঃ
কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে “ভিটামিন এ” থাকায় রাতকানা রোগ প্রতিরোধে এটি অত্যন্ত উপকারী।
কচু আঁশ জাতীয় হওয়ায় এটি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে।
কচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম যা আমাদের হাড় শক্ত করতে সহায়তা করে।
চুলের ভঙ্গুরতাও বন্ধতেও কচুর উপকারিতা অনেক।
কচুতে আয়োডিনের পরিমাণও অনেক।
যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি রয়েছে তাদের জন্য কচু অনেক উপকারী।
কচুর লতিতে চিনির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরাও নিশ্চিন্তে খেতে পারেন এটি।
৪. কচু শাকের নানা গুণাগুণঃ
কচু শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা খাবারকে সহজে হজম করতে সাহায্য করে থাকে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাঁরা কচুশাক খেতে পারেন।

৫.রাতাকানা রোগ ও দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে কচুঃ

কচুশাক ভিটামিন এ-এর খুব ভালো উত্‍স, রাতাকানা রোগসহ ভিটামিন এ-এর অভাবে হওয়া সকল ধরনের রোগ প্রতিরোধে কচুশাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখ সম্পর্কিত জটিলতা কমায় ও নানান সমস্যা সমাধান করে।

৬.শরীরে অক্সিজেন সরবরাহঃ

আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে কচু শাক অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া কচুশাক আয়রনসমৃদ্ধ বলে এর সমাদর অনেক বেশি। আমাদের শরীরে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে সব ডাক্তাররাই কচু শাক খাওয়ার পরামর্শ দেন।

৭.কচু শাকের ভর্তা খুবই জনপ্রিয়ঃ

কচু শাকের ভর্তা একটি জনপ্রিয় খাবারের আইটেম।

৮.মুখ ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধে
কচুঃ

ভিটামিন এ-এর পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন বি এবং সি-ও। তাই মুখ ও ত্বকের রোগ প্রতিরোধেও কচুশাক সমান ভূমিকা রাখে।

৯.ক্যান্সার প্রতিরোধে কচুঃ

এছাড়াও এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত কচু শাক খেলে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১০.দাঁত ও হাড়ের গঠনে কচুঃ

কচু শাকের সব চেয়ে বড় উপকারিতা হল এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ ও ফসফরাস। আমাদের দাঁত ও হাড়ের গঠনে এবং ক্ষয়রোগ প্রতিরোধে কচু শাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১১.হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে কচুঃ

এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম, তাই হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়।

১২.উচ্চ রক্তচাপ কমাতে কচুঃ

কচু শাকে থাকা স্যাপোনিনস, টেনিনস, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্লাভোনয়েড উচ্চ রক্তচাপ কমায়। নিয়মিত কচু শাক খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।

১৩.গর্ভবতী নারীদের জন্য কচু খুবই উপকারীঃ

কচু শাকে বিদ্যমান নানা রকমের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গর্ভবর্তী মা ও শিশুর জন্য অনেক উপকারী। কচু শাক সহজ লভ্য তাই দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মহিলারা ভিটামিন ও আয়রনের চাহিদা পূরণের জন্য কচু বা কচুশাক খেতে পারেন।
কচুর রয়েছে নানা ধরনের উপকারিতা। এ কারণেই আদিকাল থেকেই কচুর চাষাবাদ হয়ে আসছে। কচুর চাহিদা সবসময়। বরং দিন দিন এর চাহিদা আরো বাড়ছে।

লেখকঃ

শামসুল হুদা লিটন
সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক
Shamsul Huda Liton

About admin

Check Also

সনমানিয়ায় আলফাজ উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার চর-সনমানিয়ার চরআলীনগর আলফাজ উদ্দিন মোক্তার ফাউন্ডেশন নামের অলাভজনক, অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানটি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com